মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন
ঈদের ছুটি বড়, দুই শনিবার ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থী!
অনলাইন ডেস্ক
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী ১ জুন থেকে, যা চলবে টানা ১৯ জুন পর্যন্ত। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হলেও এ ছুটির শুরুর আগেই থাকছে একটি ভিন্নধর্মী ঘোষণা। সরকার এবার বিশেষ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৭ মে ও ২৪ মে—এই দুই শনিবার সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটি হলেও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সরকার ইতোমধ্যেই এ-সংক্রান্ত একটি অফিসিয়াল চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ঈদুল আজহার ছুটির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ১৭ ও ২৪ মে দুই শনিবার অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে হবে। শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি সব অফিসেও একই নির্দেশনা কার্যকর হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদুল আজহার মূল ছুটি শুরু হবে ১১ জুন, যা বুধবার। ১১ ও ১২ জুন যথাক্রমে বুধবার ও বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে সরকারি স্কুলগুলোতে ছুটি শুরু হবে ১ জুন থেকেই, যেখানে ঈদুল আজহার ছুটির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশও যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোয় ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে একটু পরে—৩ জুন থেকে ১২ জুন পর্যন্ত। তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ছুটি আরও দীর্ঘ, যা ৩ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত চলবে।
এই দীর্ঘ ছুটি সুষ্ঠুভাবে উপভোগের সুযোগ করে দিতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ১৭ ও ২৪ মে অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মাধ্যমে ছুটির ভারসাম্য রক্ষা করতে এবং ছুটির কারণে সৃষ্ট কাজের চাপ সামলাতে আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ নির্দেশনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, সরকার একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে চাইছে, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না। সব মিলিয়ে এবারের ঈদুল আজহার ছুটি ঘিরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন এক আবহ তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে রয়েছে দীর্ঘ ছুটির মিষ্টি স্বাদ, অন্যদিকে রয়েছে ছুটির ভারসাম্য আনতে অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক ধরনের মিশ্র অনুভূতির কারণ হলেও, সরকারের এই সমন্বয়মূলক উদ্যোগকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন।